ঢাকা , শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬ , ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​খালেদা জিয়া, খামেনি, মনমোহন সিং-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের স্মরণে শোকপ্রস্তাব গ্রহণ

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১২-০৩-২০২৬ ০৩:১৬:১১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১২-০৩-২০২৬ ০৩:১৬:১১ অপরাহ্ন
​খালেদা জিয়া, খামেনি, মনমোহন সিং-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের স্মরণে শোকপ্রস্তাব গ্রহণ শোকপ্রস্তাব গ্রহণ



ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে অধিবেশন পরিচালনার জন্য পাঁচ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে তাদের মনোনয়ন দেওয়া হয়।

ঘোষিত তালিকায় রয়েছেন ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির এমপি মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, ঢাকা-২ আসনে বিএনপির এমপি গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নরসিংদী-১ আসনে বিএনপির এমপি আব্দুল মইন খান, কুমিল্লা-৬ আসনে বিএনপির এমপি মোহাম্মদ মনিরুল হক চৌধুরী এবং রংপুর-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর এমপি এটিএম আজহারুল ইসলাম।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাদের নাম ঘোষণা করে বলেন, ‘স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে বৈঠকে উপস্থিত সভাপতিমণ্ডলীর তালিকায় যার নাম শীর্ষে থাকবে, তিনি স্পিকারের আসন গ্রহণ করবেন।’

জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালির অংশ হিসেবে প্রতিটি অধিবেশনে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের মনোনয়ন দেওয়া হয়। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার অনুপস্থিত থাকলে সংসদের কার্যক্রম সচল রাখতে এই সদস্যরা পর্যায়ক্রমে অধিবেশন পরিচালনা করেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম দিনের কার্যসূচিতে স্পিকার নির্বাচন, ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং শপথের পর সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মনোনয়নের মধ্য দিয়ে অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়।


সংসদ সদস্যদের কার্যপ্রণালীবিধি পড়ার অনুরোধ স্পিকারের
সংসদ সদস্যদের কার্যপ্রণালীবিধি পড়ার অনুরোধ করেছেন মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে শোকপ্রস্তাবে সংসদ সদস্যদের বক্তব্য রাখার সময় তিনি এমন কথা বলেন।

স্পিকার বলেন, ‘অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে একটি বিষয় উপস্থাপন করতে চাই—কার্যপ্রণালী বিধি প্রত্যেক সংসদ সদস্যের জন্য বাইবেলের মতো। এটি অনুগ্রহ করে আপনারা মনোযোগসহকারে পড়বেন, বিশেষ করে নবীন সদস্যরা। একটি আচরণবিধি হলো, স্পিকার যখন কোনো সদস্যের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন, সেই সদস্য তখন নিজের আসনে বসে পড়বেন। ভবিষ্যতে আপনারা এটি পালন করবেন। এটাই সংসদীয় রীতিনীতি।’

জাতীয় সংসদের কার্যক্রম সম্পাদন ও নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদ কর্তৃক প্রণীত ও অনুমোদিত কাঠামো হলো কার্যপ্রণালী বিধি। সংবিধানের ৭৫(১)(ক) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে সংসদ কর্তৃক গঠিত কমিটির পেশকৃত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এটি প্রণীত।


ফ্যাসিস্ট ও তাদের দোসরদের এই সংসদে কথা বলতে দেওয়া যাবে না: নাহিদ ইসলাম
ছাত্র-জনতার গণ–অভ্যুত্থানের ফসল এই জাতীয় সংসদে কোনো ফ্যাসিস্ট বা তাদের দোসর যেন বক্তব্য দিয়ে সংসদকে কলুষিত করতে না পারে, স্পিকারের কাছে সেই দাবি জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, ‘আমরা ফ্যাসিবাদ ও এর দোসরমুক্ত জাতীয় সংসদ চাই।’

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে জুলাই-আগস্ট গণ–অভ্যুত্থানের শহীদদের ওপর আনা শোকপ্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

ঢাকা-১১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম তাঁর বক্তব্যে ৫ আগস্টের (৩৬ জুলাই) স্মৃতিচারণা করে বলেন, ‘ছাত্র-জনতার মিছিল নিয়ে আমি ও আমার সহযোদ্ধারা এই জাতীয় সংসদের প্রাঙ্গণেই এসেছিলাম এবং ফ্যাসিস্টমুক্ত করেছিলাম। আজ এই মহান সংসদে কথা বলতে পারছি, সে জন্য আল্লাহ তায়ালা ও জুলাইয়ের শহীদদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

গণ–অভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিমসহ চার বছরের শিশু আহাদ, ছয় বছরের শিশু রিয়া গোপের মতো প্রায় দেড় শ শিশু শহীদ হয়েছে। পুলিশের এপিসি থেকে ফেলে দেওয়া শহীদ ইয়ামিন কিংবা সাভারে পুলিশের গাড়িতে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা কিশোর সজলের মতো অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগে এই নতুন বাংলাদেশ।

এ সময় তিনি দশম শ্রেণির ছাত্র শহীদ আনাসের লেখা একটি চিঠির উদ্ধৃতি দেন। আনাস তার মাকে লিখেছিল, ‘একটি প্রতিবন্ধী কিশোর, সাত বছরের বাচ্চা, ন্যাংড়া মানুষ যদি সংগ্রামে নামতে পারে, তাহলে আমি কেন বসে থাকব ঘরে? একদিন তো মরতেই হবে, তাই মৃত্যুর ভয় করে স্বার্থপরের মতো ঘরে বসে না থেকে সংগ্রামে নেমে বীরের মতো মৃত্যু অধিক শ্রেষ্ঠ।’

এই অভ্যুত্থানে ভ্যানগার্ড হিসেবে ভূমিকা রাখার জন্য ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি, ছাত্র অধিকার পরিষদ এবং বিভিন্ন বামপন্থী ও ইসলামপন্থী ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান নাহিদ। একই সঙ্গে তিনি পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের শহীদ, আবরার ফাহাদ, ফেলানী থেকে শুরু করে বিগত সরকারের আমলের গুম-খুন ও লুটের বিচার দাবি করেন।

জুলাই গণ–অভ্যুত্থান কেবল একটি ঘটনা নয়, বরং নতুন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জুলাই মানেই এক অন্তর্ভুক্তি ও বৈষম্যহীন দেশ, জুলাই মানেই আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিজমমুক্ত দেশ। আমরা শহীদদের রক্তের সঙ্গে কোনো বেইমানি করব না।’

নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ